দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর কোরিয়া দুই তলা বিশিষ্ট নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এ ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগের’ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নতুন ভবনটি উত্তর কোরিয়ার প্রধান ইয়ংবিয়ন পরমাণু স্থাপনা এলাকায় তৈরি করা হয়েছে। এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সর্বোচ্চ ২৮টি সেন্ট্রিফিউজের সারি স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত মাসের শেষ দিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইএইএ জানায়, উত্তর কোরিয়া আরও একটি সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় সম্প্রসারিত অংশের কার্যক্রমও শুরু করেছে। এসব তথ্য দেশটির অনুমোদনহীন পরমাণু অবকাঠামোর ধারাবাহিক সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া থেকে ২০০৯ সালে আইএইএর পরিদর্শকদের বহিষ্কার করার পর দেশটিতে সংস্থাটির কোনো পরিদর্শক নেই। ফলে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির পরিস্থিতি মূল্যায়নে মূলত উপগ্রহচিত্রের ওপর নির্ভর করতে হয় আইএইএকে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক বিবৃতিতে রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ও আরও উন্নয়ন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অত্যন্ত দুঃখজনক।’
আইএইএ প্রথম গত জুনে নতুন ভবনটির অস্তিত্বের কথা জানায়। তবে এর আগে বছরের শুরুতেই গ্রোসি স্থাপনাটির সম্ভাব্য অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
জুনে আইএইএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ৩ জুন ‘নতুন উদ্বোধন করা পরমাণু উপকরণ উৎপাদন কারখানা’ পরিদর্শন করেন। সংস্থাটি ওই স্থাপনাটিকে ইয়ংবিয়নের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করে।
আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং উন দেশের ‘ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত উৎপাদন সক্ষমতার’ প্রশংসা করেন। এই সক্ষমতা ‘বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করবে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির গোপন পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার উন্নয়নে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নিয়ে কাজ করা একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে এই ব্যয় ৬৪ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল বিবিসিকে বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কারণ হলো, দেশটির অনেক স্থাপনার বিষয়ে আমরা জানি না। সেগুলো গোপন রাখা হয় এবং তাই সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন।’
তিনি বলেন, ইয়ংবিয়নের বাইরেও উত্তর কোরিয়ার অন্যান্য পরমাণু স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কাংসনও রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নীতি দেশটির বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ায় আরও গোপন উৎপাদন স্থাপনা থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইএইএ আরও জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কাংসনের আরেকটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে কাংসনে ওই স্থাপনার একটি সম্প্রসারিত অংশ নির্মাণ করা হয়েছিল।
এর আগে এপ্রিলেও আইএইএ জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। ইয়ংবিয়ন স্থাপনার সম্প্রসারণও তারা পর্যবেক্ষণ করছে।
কিম জং উনের শাসনামলে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি আরও দ্রুত এগিয়েছে। এ সময় দেশটি রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০১৭ সালে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা শুরুর পর থেকে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পরীক্ষা করেছে।
এ পর্যন্ত দেশটি ছয়টি পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। সর্বশেষ পরীক্ষা হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে।
গত আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণার বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এমন আলোচনা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ বন্ধের ‘কার্যকর উপায়’ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়া এখনো ওই প্রস্তাবের জবাব দেয়নি।
উত্তর কোরিয়া ২০২২ সালে নিজেদের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র ঘোষণা করে এবং তাদের হাতে থাকা পরমাণু অস্ত্র কখনো পরিত্যাগ করবে না বলে অঙ্গীকার করে। দেশটির হাতে কয়েক ডজন পরমাণু অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া প্রতিবছর আরও ১৫ থেকে ২০টি পরমাণু ওয়ারহেড তৈরি করছে। গত বছর বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন স্থগিত রাখার কোনো চুক্তিকে সমর্থন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন।
/অ